ঝিনাইগাতীতে কৃষি অফিস প্রাঙ্গণ যেন কৃষি খামার

0
12

তৌহিদুর রহমান নিজস্ব প্রতিনিধি-

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গন যেন কৃষি খামার। অফিস প্রাঙ্গন ও ছাদের (টবে) এখন সবুজের সমরোহ। আঙ্গিনা ও ছাদে (টবে) আবাদ করা হয়েছে ফুলকপি, ব্রুকলি, মরিচ, বেগুন, টমেটো, মাচায় লাউ, ইত্যাদি মালচিং পদ্ধতিতে হরেক সবজির আবাদ। ভবনের সামনে পাশে করা হয়েছে হরেক সবজি চাষ। এ ভাবেই শেরপুর উত্তরের ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি অফিসের আঙ্গিনা পরিণত হয়েছে কৃষি খামারে।সাড়ি কালিনগর গ্রামের কৃষক শান্ত সিফাত, গান্দিগাও গ্রামের মনিরুল ইসলাম মনির দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, আমরা উপজেলা কৃষি অফিসের আঙ্গিনার সবজি চাষাবাদ দেখে মুগ্ধ! এখানে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। সবজি উৎপাদনে জৈব সার ও বালাই নাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। সবজির আবাদ ও চমৎকার হয়েছে। আমরা এ ভাবে সবজির আবাদ করব বলে চিন্তা ভাবনা করছি। কুশাইকুড়া গ্রামের কৃষক মাওলানা আশ্রাফুল ইসলাম, গারোকুনা গ্রামের আদর্শ কৃষক আনোয়ার হোসেন ও হলদিগ্রামের কৃষক আব্দুল বাতেন, প্রতাবনগরের শতবর্ষী ডা:আব্দুল বারী, সাড়ি কালিনগরের কৃষক আলহাজ, শরীফ উদ্দিন সরকার ও শালচুড়া গ্রমের কৃষক আলহাজ, সরোয়ার্দী দুদু মন্ডল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, কৃষি অফিসের আঙ্গিনায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে সবজি আবাদে যেন সবুজে সবুজে সাজানো হয়েছে। চমৎকারভাবে সবজি ফলানো হচ্ছে। বাইরে থেকে একটি আদর্শ কৃ যি খামারের মতো দেখা যাচ্ছে। যা দেখে শাক- সবজির চাষ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা ও আমাদের বাড়ির আঙ্গিনার পতিত জমিতে শাক-সবজির আবাদ শুরু করবো। ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে আমরা এখানে মানব দেহের জন্য নিরাপদ ও বিষমুক্ত শাক-সবজি উৎপাদন শুরু করেছি। এখন অফিসের সামনে দেখে মনে হয় সবজির সবুজের গালিচা।আঙ্গিনায় উৎপাদিত এই সবজি অত্যন্ত নিরাপদ।রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার না করেও যে আবাদ করা সম্ভব, তার একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। এভাবে কৃষকরাও আবাদ করে সবজি খেয়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারবেন এ জন্যই উদ্বোগটি। বানিজ্যকভাবে চাষাবাদেও ভাল লাভবান হতে পারবেন। তার দৃষ্টান্ত সবজিতে এই কৃষি অফিস প্রাঙ্গন ভরে গেছে। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, সরকারের পলিসি অনুযায়ী, এক ইঞ্চিও জায়গাও যেন পতিত রাখা যাবে না। সেই অনুযায়ী, সবজি উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কৃষি অফিস। এখানে সবুজ সবজি চমৎকারভাবে শোভা ছড়াচ্ছে। কৃষি অফিস কর্তৃ পক্ষ সবজি চাষ করে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি একটি পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দনে পরিণত হয়েছে। উপজেলার মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেন কৃষি অফিস দাঁড়িয়ে আছে। এটি আমাদের গর্ব। আমরা ও বিভিন্ন মিটিংয়ে পতিত জমিযেন কৃষকরা ফেলে না রেখে সবজিসহ বিভিন্ন আবাদ করেন সেই পরামর্শ দেব। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ও এ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হবে। কৃষির উন্নয়নে কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ যে প্রনোদনাও দেয়া হচ্ছে।শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হুমায়ুন কবির ইনকিলাবকে বলেন, ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি অফিসের আঙ্গিনায় মডেল সবজি বাগানে হরেক সবজির চাষ করা হয়েছে। এখানের উৎপাদিত সবজি নিরাপদ। এসব সবজি খেয়ে মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। ফসলের উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পাবে। তেমনই কৃষিতে কৃষকের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। অনুকরণ করে সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবে। এছাড়া অনেক কৃ ষক দেখাদেখি বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে আমি আশাবাদি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here