Home কৃষি সুযোগ নিচ্ছে বহুজাতিক কীটনাশক কোম্পানী ও ডিলাররা , অসচেতনায় পিছিয়ে পড়ছে শেরপুর ও...

সুযোগ নিচ্ছে বহুজাতিক কীটনাশক কোম্পানী ও ডিলাররা , অসচেতনায় পিছিয়ে পড়ছে শেরপুর ও গারো পাহাড়ের কৃষি ও কৃষক

0
23

বিশেষ প্রতিনিধি:

  অর্থনৈতিক দৈন্যদশা ও অসচেতনায় পিছিয়ে পড়ছে শেরপুর জেলা ও গারো পাহাড়ের ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী কৃষি ও কৃষক। সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে এগোতে পারছেন না তারা। আধুনিক কৌশল প্রয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছেন পিছিয়ে। সচেতনাতার অভাবে কৃষকের বিরাট অংশই ফসল উৎপাদনে সনাতনী ধারণাকেই প্রাধন্য দিচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শকে প্রাধান্য না দিয়ে কীটনাশক কোম্পানীর ডিলারদের ভূল পরামর্শকেই প্রাধান্য দিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শালচুড়া গ্রামের বড় কৃষক সরোয়ারদী দুদু মন্ডল বলেন, কৃষকদের অজ্ঞতায় বহুজাতিক কীটনাশক কোম্পানিগুলো চুটিয়ে ব্যবসা করছেন। ফলে কৃষকরা ফসল উৎপাদনে অধুনিক কলাকৌশল আয়ত্বে আনতে পারছেন না। ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করছে। রয়েছে মনিটরিং। তবে গারো পাহাড়ে কৃষকদের আধুনিক কৌশল প্রয়োগের আগ্রহে ঘাটতি রয়েছে। সব ধরণের ফসল চাষ করে কৃষক। লোকসান বা লাভ না হলেও ধান চাষে আগ্রহী তারা। ভাল বীজ সংগ্রহ,সুষম সার ব্যবহার এবং সমন্বিত চাষে কৃষক নিজস্ব চেতনায় পুরনো মান্ধাতা আমলে বাপ-দাদার মতো কাজ করেন। অর্ধ্ব শিক্ষিত,মূর্খ্য, প্রবীণ ব্যক্তিরাই কৃষিজীবি হিসেবে উৎপাদন কাজে নিয়জিত। কৃষকরা জানান, কৃষি উপসহকারীগণ পরামর্শ দেন ঠিকই, বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না খবর নেন না। ফলে সে পরামর্শ বাস্তবায়ন হয় না। কৃষি উপসহকারীরা জানান, কৃষকরা কৌশলগত তথ্য গ্রহণে আগ্রহী কম। উৎপাদন উপাদান কিভাবে পাওয়া যাবে সে দিকেই নজর রাখেন বেশী। জানা যায়, কৃষকদের অসচেতনার সুযোগে বহুজাতিক কীটনাশক ব্যবসায়ীরা প্রান্তিক কৃষকদের সাথে সখ্যতা ও ব্যবসায়িক বিবেচনায় সম্পর্ক গড়ে দেদার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেণ। কৃষকরাও কীটনাশক কোম্পানীর প্রতিনিধি ও ডিলারদের পরামর্শক মনে করছেন। বহুজাতিক কোম্পানী যে স্বার্থ রক্ষায় ব্যবসায়ীক দিকে প্রধান্য দিচ্ছে তা বুঝতে পাচ্ছেনা কৃষক। শালচুড়া গ্রামের বড় কৃষক সরোয়ারদী দুদু মন্ডল, সারিকালিনগরের কৃষক আলহাজ্ব শরীফ উদ্দিন সরকার,প্রতাপনগরের কৃষক ডা. আব্দুল বারী, আলহাজ্ব রেজায়ুর রহমান মাস্টার প্রমূখ কৃষকগণ জানান, কৃষি বিভাগের লোকজন আসে এবং পরামর্শও দেন। কীটনাশক ব্যবসায়ীরা যে ভাবে সব সময় পরামর্শ দেন, কিভাবে প্রয়োগ করছি দেখিয়ে দেন, তাতো কৃষি বিভাগের লোকজন করে না। এ জন্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শকেই প্রধান্য দেই। তারা স্বিকার করেন, অনেক সময় পরামর্শে ওষুধ প্রয়োগে ও কাজ হয় না। বাধ্য হয়ে আবারো ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। এ ভাবে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। কিন্ত কমছে না বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানী এবং কীটনাশক ডিলারদের ওপর নির্ভরশীলতা। 

উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ুন দিলদার বলেন, কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। 
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া বলেন- এ ব্যপারে কোন প্রমাণ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

এই পোর্টালের কোনো নিউজ কপি হবে না

Share via
Copy link