শেরপুরে শাক-সবজি ও মিষ্টি কুমড়ায় মিষ্টি হাসি, ফলন ও বাজারমূল্যে কৃষক বেজায় খুশি

0
19

এস.কে সাত্তার: ‘শেরপুর জেলার সর্বত্র ও গারো পাহাড় অঞ্চলে শাক-সবজি চাষে কৃষকের মূখে মিষ্টি হাসি, ফলন ও ভালো বাজারমূল্যে তারা বেজায় খুশি।’ নকলার চরঅষ্টধর, চন্দ্রকোনা, পঠাকাটা, উরফা, টালকী ও বানেশ্বরদী ইউনিয়নে অনুরবর ও পতিত জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ হয়েছে বেশি। স্বল্প সময় ও শ্রম এবং কম খরচে বেশী উৎপাদন ও ভালো বাজারমূল্যে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। ফলে বারোমাসি সবজি আবাদে ঝুঁকছেন কৃষকরা। দিন দিন বাড়ছে মিষ্টি কুমড়াসহ শাক-সবজির আবাদ। বাম্পার ফলন ও ভালো বাজারমূল্যে কৃষকদেও মুখে হাসি ফুটেছে- তাঁরা বেজায় খুশি। জেলার নকলা উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলা দক্ষিণ পাড়ার কৃষক গোলাপজলের খেতের মিষ্টিকুমড়া তুলে ঢাকা নিতে জমাচ্ছেন পাইকার আব্দুল হালিম। এই সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। শীতকালীন আবাদে অক্টোবর-ডিসেম্বর, গ্রীষ্মকালীন আবাদ ফেব্রম্নয়ারি-মে মাস পর্যন্ত মিষ্টিকুমড়ার বীজ বপন করতে হয়। সবজি ভান্ডার খ্যাত শেরপুর জেলায় সুস্বাদু সবজি মিষ্টি কুমড়া সারা বছর পাওয়া যায়। মিষ্টি কুমড়াসহ মৌসুমী সবজি গোলআলু, পটল, শিম, বেগুন, লাউ, ঢেঁড়স, ঝিঙা,পটল, বরবটি, কাকরোল, বেগুন, চিচিংগা, টমেটো-করলাসহ শাক-সবজির আবাদ হয় গোটা জেলায় তথা গারো পাহাড়ে। ‘মৌসুমী শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষে কৃষি বিভাগও কৃষকদের উদ্বোদ্ধ করছে। অপেক্ষাকৃত অনুরবর, পাহাড়ি উঁচু ও পতিত জমিতে শাক সবজি আবাদে সময়, শ্রম ও কম খরচে ফি-বছর মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য সবজির আবাদ দিনকে দিন বাড়ছে বলে কৃষি বিভাগের শেরপুর খামারবাড়ির উপপরিচালক ( উদ্ভিদ ও সংরক্ষণ ) কৃষিবিদ হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে জানান।’ কৃষি অফিস জানায়, এবছর নকলা উপজেলায় ২০০ একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। ‘এছাড়া উপজেলার অপেক্ষাকৃত অনুরবর শত একর জমিতে চাষ করা গোলআলু ক্ষেতেই কুমড়ার আবাদ হয়েছে। তাছাড়া গৃহিণীরা বাড়ির আঙ্গিনায় মিষ্টি কুমড়ার গাছ রোপন করেছেন। সবমিলিয়ে আরো অন্তত ৫০ একর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে বলে ধারণা কৃষি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় কৃষকদের। চলতি মৌসুমে উপজেলার অনেক কৃষক মিষ্টি কুমড়া চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন।’ এমন কৃষক চরঅষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলা দক্ষিণপাড়ার সুরজত আলীর ছেলে গোলাপজল। ৯০ শতক জমির গোলআলু ক্ষেতে মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করেছিলেন। গোলআলু তুলার পর কুমড়াগাছ রোপন করেছেন ওই ক্ষেতেই। আলু ক্ষেতে কুমড়াচাষে বাড়তি খরচ হয়নি। ৯০ শতকে ১৪ পেকেট বীজ, ২ বার সামান্য সেচ, নিড়ানি ও কিছু জৈব সার দিয়েছেন। সব মিলে খরচ ১৬ হাজার টাকা। মার্চ পর্যন্তই বিক্রি করেছেন ৮৫ হাজার টাকার মিষ্টি কুমড়া পাইকারি। স্থানীয় বাজারে আরো ২০ হাজার টাকার মিষ্টি কুড়মড়া খুচরা বিক্রি করেছেন বলে গোলাপ জল জানান। যে ফলন তা থেকে আরো ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন। গোলাপজল বলেন, চাষিগণ আলু ক্ষেতে মিষ্টিকুমড়ার আবাদে ঝুকে পড়েছেন। একই জমিতে ২ ফসল পেয়ে কৃষকরা বেজায় খুশি। ‘আলু ক্ষেতে কুমড়ার আবাদে অধিক মুনাফায় লাভবান কৃষকরা। কৃষক আকবর আলী বলেন, অনুরবর জমিতে না বুঝে অন্য চাষ করে লাভ কম হতো। কৃষি বিভাগের পরামর্শে মিষ্টি কুমড়া চাষে বেশী লাভের মূখ দেখছি। তাই কৃষকরা মিষ্টিকুমড়া আবাদে ঝুঁকেছেন। উৎপাদিত সবজি বিক্রিতে চিন্তাও করতে হয় না।’ পাইকাররা জমি থেকেই নিয়ে যান। এতে সময় ও শ্রম কম। লাভ ও বেশি বলে জানান কৃষকরা। শুরম্নতে কেজি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হলেও মৌসুমে কেজি ১২- ১৫ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। নারায়নখোলা পশ্চিম পাড়ার মোকসেদ আলীর ছেলে সবজি পাইকার আব্দুল হালিম জানান, পাইকারি কিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারের পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতার নিকট অল্প লাভে বিক্রি করেন। গাছসহ ২০ কাঠা (১০০ শতক) ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন। অর্ধলাখ টাকা লাভ থাকবে বলে আশা করছেন। তিনি জানান, ৭ বছর মৌসুমী শাক সবজির পাইকারি ব্যবসার করে সংসার খরচ- ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার খরচ চলান।

IFRAME SYNC

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here