শেরপুরে বিলের মাছের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে; হাট-বাজারে মাছের তীব্র সংকট

0
3

সকালের চেতনা ডেস্ক: গ্রীষ্মের পুড়ছে শেরপুর অঞ্চল। ফলে খরায় খাল-বিল জলাশয় পানিশূন্য হওয়ায় শেরপুর অঞ্চলে দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চল ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় চাহিদার তুলনায় মাছের উৎপাদন কম থাকায় দেশীয় মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে হাট-বাজারগুলোয়।

নালিতাবাড়ীর সংবাদকর্মী মো: আমিরুল ইসলাম বলেন, ’সামান্য কিছু কিছু দেশীয় মাছ উঠলেও দাম আকাশচুম্বী। ফলে দরিদ্র ও অনেক মধ্যবিত্তদের মাছ ভাতের চিন্তা যেন আকাশ কুসুম কল্পনা হয়ে উঠেছে! জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েই চলেছে মাছের চাহিদা। কিন্তু সে অনুযায়ী মাছ উৎপাদন হচ্ছেনা। মাছ উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্বেও মাছের উৎপাদন কম হচ্ছে ক্রমাগত নদী নালা খাল বিল শুকিয়ে যাওয়ায়।

ফলে চাহিদার তুলনায় মাছের উৎপাদন কম হওয়ায় হাট-বাজারগুলোয় মাছের দাম বেড়েই চলছে ক্রমাগতভাবে।’ মাছ কেনা নিম্নবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে জানান শালচুড়া গ্রাম থেকে মাছ কিনতে আসা আলহাজ সরোয়ার্দী দুদু মন্ডল।

দিঘিরপাড় গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলহাজ শাহজাহান আকন্দ বলেন, মাছে ভাতে বাঙালি এ প্রবাদটি ও এখন শুধুই প্রবাদ বাক্যে পরিণত হয়েছে। এ অঞ্চলে মাছের চাহিদা থাকলেও নানা কারণেই মাছের উৎপাদন কম হচ্ছে। ফলে প্রতিবছরই দেশীয় মাছের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।’

সংশ্লিষ্ট মৎস্য বিভাগ জানায়, শেরপুর জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শত শত খাল, বিল, পুকুর দীঘি, ডোবা-নালা, নদ-নদী। কিন্তু গত ক‘বছর ধরে খরায় সব শুকিয়ে যাওয়ায় জলাশয়ে কাঙখিত মাছ মিলছে না। ভরসা এখন শুধুই চাষের মাছ। কিন্তু ক্রমাগত খরায় পানির অভাবে চাষের মাছের ও উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ফলে মৎস্য শুন্য হয়ে পড়েছে শেরপুর অঞ্চল।’

সাড়ি কালিনগর গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মো: সাজল মিয়া জানান, এক কালের মাছের জেলা শেরপুরে চলছে তীব্র মাছের আকাল। অথচ দিন দিন মানুষের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে মাছের চাহিদা বেড়েই চলেছে। এ জেলায় মানুষের চাহিদা অনুসারে দেশীয় মাছ মিলছে না। ভরসা এখন শুধুই চাষের মাছ। তাও দাম নাগালের বাইরে!’

রামনগর গ্রামের আলহাজ গোলাম মোস্তফা বলেন, বাৎসরিক মাছের চাহিদার তুলনায় প্রতি বছর থাকছে ঘাটতি। ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে চাষের মাছ দিয়ে। ফলে শেরপুরের জলাশয়গুলো মৎস্য শূন্য হয়ে পড়ায় দেশীয় মাছের উৎপাদন ও বৃদ্ধি পাচ্ছেনা। ফলে দেখা দিয়েছে মাছের ঘাটতি। এতে কর্ম বিমুখ হয়ে পড়ছে জেলেরা।

মাছের চাহিদা বেশি থাকায় জেলার সকল হাট-বাজারে দাম বেড়েই চলেছে। কোন ক্রমেই মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।’ বন্দভাট পাড়ার নিম্নবিত্ত মো: রুস্তম আলী জানান, মাছ কেনা এখন আমাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।’

অপরদিকে অব্যাহত খরার বিরূপ প্রভাবে নদীনালা খাল-বিলে পানি না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিঙ্গমহল মনে করছেন।

মৎস্য খামারি রুবেল মিয়া জানান, মৎস্য খামারে সেচ দিয়ে পানি ভরাট করতে গিয়ে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।’

শেরপুর মৎস্য বিভাগ জানায়, জেলা উপজেলায় মাছের উৎপাদন বাড়াতে নদী নালা খাল বিলে মাছ উৎপাদনে পোনা অবমুক্ত করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে মৎস্য বিভাগ। এতে মাছের উৎপাদন দ্বিগুন বাড়বে বলে দাবী মৎস্য কর্মকর্তাদের।

অপরদিকে জলাশয়ে অবাধে মাছ ধরা। জমিতে কীটনাশকের যথেচ্ছা ব্যবহার। রাসায়নিক সারের ব্যবহারে মাছের বংশ ধবংস হচ্ছে। দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এগুলো রক্ষা করা গেলে কিছুটা মাছের উৎপাদন বাড়বে বলে মনে করেন ঝিনাইগাতী বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্ব ডা. আব্দুল বারী, আলহাজ শাহজাহান আকন্দ, আলহাজ গোলাম মোস্তফা, আলহাজ সরোয়ার্দী দুদু মন্ডল, আলহাজ শরীফ উদ্দিন সরকার ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ফর্সা দৈনিক সকালের চেতনাকে বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে প্রয়োজন পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়াও জেলা উপজেলায় মৎস্য উৎপাদনে জলাশয়ের সুষ্ঠু ব্যবহার। জলাশয় মালিকদের মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া দৈনিক সকালের চেতনা কে বলেন, আধুনিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান দিয়ে মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

IFRAME SYNC

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here