পার্বতীপুর উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা ও প্রশাসন সমণ্বয়ে পূজা উদযাপন কমিটির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

0
8

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:

আজ সোমবার (০৯ অক্টোবর) পার্বতীপুর উপজেলা মিলনায়তনে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা ও শারদীয় দুর্গোৎসব প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আমজাদ হোসেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাঈল। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমাদুল হাসান, মডেল থানার তদন্ত ওসি হাফিজ মোঃ রায়হান, জিআরপি ওসি একেএম নূরুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল মোমিনিন মোমিন, সংবাদিকদের পক্ষে দৈনিক যুগান্তর পার্বতীপুর প্রতিনিধি মুসলিমুর রহমান। উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্ত মোঃ নাসিম, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, বিদ্যুৎ বিভাগের নেসকো প্রধান ও পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম, পূজা উদযাপন কমিটির উপজেলা সাধারন সম্পাদক বাবু দীপেশ চন্দ্র রায় সহ প্রতি মন্ডপের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতিগণ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, নানা মিডিয়ার কর্মী সহ ১০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ। মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলাকালীন প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা ও উপজেলা চেয়ারম্যান পার্বতীপুর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, প্রতি মাসে আইন-শৃঙ্খলা প্রস্তুতির উপরে সভা করা হয় আসলে এর আউটপুটটা কি? গত মাসে যে সিদ্ধান্ত বা নির্দেশগুলো ছিলো, তার বাস্তবায়নই বা হয়েছে কতটুকু? তিনি দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্ততঃ মাদক যদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম তাহলে আজকের এই সভা অনেকটাই যৌক্তিকতা পেত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহ ওয়ার্ড ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধি গ্রাম-পুলিশ, আনসার প্রতিরক্ষা বাহিনী থাকতেও মাদকের ব্যবসা ও সেবন বন্ধ করতে পারিনা আমরা! এর চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে? তিনি সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আগামী আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের তালিকা উপস্থাপন করতে হবে। এ দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিের সহায়তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি পূজা প্রস্তুতিমূলক সভায় বলেন, সকল আশঙ্কা, দূর্ভাবনা ও নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যেন প্রতিটি মন্ডপের কতৃপক্ষ প্রতিমা বিসর্জন করেন। এতে আমাদের আওয়ামী লীগ সহ প্রশাসনের উপর উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের চাপ কমবে। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় পৌর মেয়র জনাব আমজাদ হোসেন বলেন, ভবের বাজারে একটি বড় পূজা হয়, প্রতিমাও অনেক বড় আকারের হয়; এলাকার স্বনামধন্যতা বজায় রাখতে ঐ মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দু’একদিন পেঁছানো যেতে পারে। সভাপতির বক্তৃতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাঈল বলেন, মন্ডপ স্থাপনে যোগাযোগ সম্পন্ন সুন্দর স্থান নির্ধারণ, মন্ডপে সম্ভব হলে সিসি ও আইপি ক্যামেরা স্থাপন, নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা, নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা। এছাড়াও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৯৯৯ নম্বরতো খোলা থাকবেই, পাশাপাশি উপজেলায় একটি সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা রাখা হবে। তিনি আরও বলেন, কোন মন্ডপে জুয়া বা মদের আসর কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আযানের সময় সংযম প্রদর্শনেরও আহবান জানান তিনি। তিনি উপজেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার, নেসকো প্রধান, পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার কাছে পূজা পর্বের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চান সভায়। উল্লেখ্য এবার পার্বতীপুর উপজেলায় ১৫০ টি পূজা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে পৌর এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে ১১ টি। ইতোমধ্যে পূজা উদযাপনের সকল প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here